গত দুই তিনটা বছর ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট উপরের ওঠার সময়। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বরে ওঠার পাশাপাশি টেস্ট ও টি টোয়েন্টিতেও দেশে ও দেশের বাইরে বেশ ভালো করা শুরু করেছিল দল। কিন্তু হঠাৎ করে টি-টায়েন্টিতে মাশরাফির অবসর ও সাকিব আল হাসানের ইনজুরি ছন্দপতন এনে দিয়েছে। শুধু কী ছন্দপতন? কঠিন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। শ্রীলঙ্কানরা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের বেশ পছন্দ করেন। হাথুরুসিংহের সঙ্গে যতোই বিসিবির ঝামেলা হোক না কেন, তারা এখনও বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুভাকাঙক্ষী। ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কানরা মাঠে না গেলেও বাংলাদেশের জয় কামনা করেছিল বাইরে থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ দলের অতি সাধারণ পারফরম্যান্সে তারা হতাশ। তারা এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন মাশরাফি ও সাকিব দলে নেই, তারা আসেননি কেন? মাশরাফি অবসর নিয়েছেন এটা তাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই। সাকিব যে ইনজুরিতে সেটাও তারা জানেন না। তারা বলেছেন, এ দুজন থাকলে তোমাদের দলের এ অবস্থা হতো না। তারা নেই কেন, তাদের কি হয়েছে?

আসলেই তাই। সাকিব মাশরাফির বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি বাংলাদেশ দলে। এ দুজন না থাকলে দলের কী অবস্থা হয় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দল। সাকিব না থাকা মানে দুজন ভালো মানের খেলোয়াড় না থাকা। সাকিব ইনজুরিতে, করার কিছুই নেই। তবে মাশরাফির না থাকার পেছনে দায়ী বিসিবিই। হাথুরুসিংহের বাজে সিদ্ধান্তে সমর্থন না দিলেই হতো। হাথুরু একা কিছুই করতে পারতেন না। বিসিবি মনে করেছিল বাংলাদেশ অনেক বড় দল হয়ে গেছে, মাশরাফি না থাকলে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু মাশরাফির বিকল্প যে তৈরি হতে অনেক দেরি- এটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিসিবি। যে কারণে মাশরাফিকে অবসর ভেঙে আবার ক্রিকেটে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। একবার নয় কয়েকবার। কিন্তু বিসিবির অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন মাশরাফি। দলের কথা বিবেচনা করে মাশরাফি কি ফিরতে পারতেন না? কেউ কেউ এমন কথাও বলছেন। কিন্তু মাশরাফি সেই গোত্রের নন। খুবই ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। একবার তাকে অপমান করে ছুড়ে ফেলা হয়েছে বিনা কারণে। ক্ষতি মাশরাফির কিছুটা হয়েছেই, তার ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত হয়েছে। কিন্তু আসল ক্ষতিটা হয়েছে দলের। কি ক্ষতি হযেছে সেটা সবাই দেখতে পারছে। মাশরাফি এই বয়সেও দেশের এক নম্বর বোলার। এক নম্বর উইকেট টেকার। আর অধিনায়ক মাশরাফি? তার মতো একজন অধিনায়ক পাবে কোথায় বিসিবি?

Share.

About Author

Leave A Reply