বিমানে উঠার আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন তারা !!

৭১ জন যাত্রী নিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে এক নারী বিমানযাত্রী ফেসবুক আইডি নেইম সোনামনি।

পরিবারের সাথে তিনি যাচ্ছিলেন নেপাল। লিখেছিলেন এটা তাদের তৃতীয় হানিমুন। কিন্তু এই হানিমুনে তাঁদের ভাগ্যে কী ঘোটেছে জানা যায়নি।

ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায় তিনি যাচ্ছিলেন প্রিয় মানুষ অমির সাথে।

এনি প্রিয়ক সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে লিখেছিলেন, Ready to fly to Kathmandu from Hazrat Shahjalal International Airport …Pls keep us on your prayer…

একই সাথে তাদের সাথে ছিলেন আরেক যুগল। এফএইচ প্রিয়ক ও এনি প্রিয়ক। চারজনের এই দলে একজন শিশুও ছিল। কিন্তু আসলে তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে এটা এখন পর্যন্ত জানা যায় নি।

এদিকে আজ বিকালে তার ফেসবুক টাইমলাইনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই তাঁদের ফেসবুক টাইমলাইনে আহাজারি করছেন। বলছেন ফিরে এসো। কেউ বলছেন তোমরা কোথায়। প্লিজ কথা বলো। কিন্তু আট ঘণ্টা আগে পোস্ট দেয়া প্রিয়ক, এনি, অমি ও সোনামনি- কারো আইডি থেকেই কোনো প্রকার সাড়া পাওয়া যায় নি।

এদিকে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানের ৫০ আরোহীর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে নেপালের সেনাসূত্র। ৯ জনের নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে তারা।

ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিএস ২১১ নামের ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। নেপাল টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ৭৮ জনকে ধারণে সক্ষম ওই বিমানে ৪ ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিল। বিমানের ৩২ আরোহী বাংলাদেশি এবং ৩৩ জন নেপালি।

ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় এটি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ , ২৭ জন নারী ও দুইজন শিশু ছিলেন। ত্রিভূবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

ত্রিভূবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর জানান, ২৫ জনকে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গোকুল ভান্ডারি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ ওই সেনা মুখপাত্র জানান, নয়জনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *